কক্সবাজার সাংবাদদাতা
কক্সবাজার জেলার টেকনাফে সাবরাং ইউপির সাবেক মেম্বার ইউনুসের হত্যা মামলায় অবশেষে মামলা দায়ের করা হয়েছে। শনিবার (৬ অক্টোবর) নিহত ইউনুসের স্ত্রী কহিনুর আক্তার বাদী হয়ে টেকনাফ মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার নং- জি.আর-৭৯৯/২৫ইং।
লাশ উদ্ধার ও আসামি
গত ৫ নভেম্বর সকালে টেকনাফের হ্নীলা রঙ্গিখালী গেইটের দক্ষিণ পাশে এইচ,কে আনোয়ারের প্রজেক্ট সংলগ্ন ব্রীজের নিচে ভাসমান অবস্থায় খাল থেকে ইউনুসের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত ইউনুস ছিলেন উপজেলা আরাফাত রহমান কোকো ক্রীড়া পরিষদের সভাপতি ও উপজেলা বিএনপির সদস্য।
মামলায় প্রধান আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে:
ছৈয়দুর রহমান ওরফে ছৈয়দ (হ্নীলা রঙ্গিখালীর),
মোহাম্মদ আলম ওরফে শাফুইয়া (উপজেলা আরাফাত রহমান কোকো ক্রীড়া পরিষদের সাধারণ সম্পাদক)।
এছাড়া ৭-৮ জন অজ্ঞাত আসামীকেও মামলা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মামলায় অভিযোগ রয়েছে যে, কয়েকজন আসামী বিএনপির সক্রিয় কর্মী, যাদের হাতেই সাবেক মেম্বার ইউনুস খুন হয়েছেন।
পুলিশের মন্তব্য ও পরিবারের দাবি
টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আবু জাযেদ মোঃ নাজমুন নুর সাংবাদিকদের বলেন,
“মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে এবং তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।”
ভুক্তভোগী পরিবার জানান,
“এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা এবং সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। কোন ধরনের রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হবে না।”
মানববন্ধন ও দাবী
রবিবার (৭ নভেম্বর) বাদ জুমা টেকনাফের সাবরাং এলাকায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। টেকনাফ উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠন আয়োজন করে এই মানববন্ধন। এতে অংশগ্রহণ করেন স্থানীয় আলেম, ওলামা, স্কুল শিক্ষক এবং বিভিন্ন পেশার মানুষ।
মানববন্ধনে উপস্থিতরা খুনিদের দ্রুত গ্রেফতারের এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের দাবি জানান। তারা আরও বলেন,
“সত্য উদঘাটন ও দোষীদের বিচার ছাড়া স্থানীয় জনগণ নিরাপত্তাহীন বোধ করতে পারে। সকলকে সহযোগিতা করতে হবে, যাতে আইন নিজের কাজ সম্পূর্ণভাবে করতে পারে।”
টেকনাফে রাজনৈতিক সহিংসতা এবং স্থানীয় নেতাদের উপর হামলার ঘটনা সম্প্রতি বারবার ঘটছে। সাবরাং ইউপির সাবেক মেম্বার ইউনুস হত্যাকাণ্ড উপজেলার রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে চাঞ্চল্যকর করেছে। মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি ও আসামিদের গ্রেফতার স্থানীয় মানুষের কাছে ন্যায়বিচারের আশা জাগিয়েছে।


