গাজায় চিকিৎসা সংকটে ১৬,৫০০ ফিলিস্তিনি মৃত্যঝুঁকিতে: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | Qtv Bangla
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) গাজার ভয়াবহ চিকিৎসা সংকট নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে। সংস্থাটি সতর্ক করেছে যে, ১৬,৫০০–রও বেশি ফিলিস্তিনি বর্তমানে জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা না পেলে তাৎক্ষণিকভাবে মৃত্যুর মুখোমুখি হবেন।
বৃহস্পতিবার ডব্লিউএইচও–এর মহাপরিচালক ড. টেড্রোস আধানম গেব্রিয়েসুস এক বিবৃতিতে বলেন,
“এটি সময় ও মানবতার বিবেকের বিরুদ্ধে এক দৌড়। গাজার মানুষদের জরুরি চিকিৎসা না দিলে জীবনহানির ঝুঁকি বাড়বে।”
তিনি জানান, এই সপ্তাহে সংস্থাটির সমন্বয়ে ১৯ জন গুরুতর অসুস্থ রোগী ও ৯৩ জন সঙ্গীকে ইতালিতে স্থানান্তর করা হয়েছে। এ সময় ইতালির সহযোগিতার প্রশংসা করে ড. টেড্রোস বলেন,
“ইতালির সহানুভূতি ও দ্রুত পদক্ষেপ প্রশংসনীয়, তবে আরও অনেক দেশকে এগিয়ে আসতে হবে—কারণ এখনো ১৬,৫০০–রও বেশি মানুষ চিকিৎসার অপেক্ষায়।”
ধ্বংসস্তূপের মধ্যে চিকিৎসার লড়াই
গাজা থেকে ইতালিতে চিকিৎসা স্থানান্তর একটি ভঙ্গুর মানবিক করিডরের অংশ। এই প্রক্রিয়ায় ক্যান্সার রোগী, বিস্ফোরণে আহত শিশু এবং দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থদের বিদেশে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় হাসপাতালগুলোর ধ্বংস ও সরঞ্জাম ঘাটতির কারণে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
ইতালির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, রোগীদের রোম ও মিলানের বিশেষায়িত ট্রমা ও শিশু ক্যান্সার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এক মুখপাত্র বলেন,
“এটি কোনো দান নয়—এটি মানবতার দায়িত্ব।”
ডব্লিউএইচও-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে সংঘাত শুরুর পর এখন পর্যন্ত প্রায় ৮,০০০ গাজাবাসীকে বিদেশে চিকিৎসা সুবিধা দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ৫,৫০০–রও বেশি শিশু।
এই কার্যক্রমে জর্ডান, মিশর, সংযুক্ত আরব আমিরাত, রোমানিয়া, নেদারল্যান্ডস, স্পেন, তুরস্ক ও ইতালি সহযোগিতা করছে। তবে প্রতিটি স্থানান্তরের আগে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক বাধা অতিক্রম করতে হচ্ছে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।
ডব্লিউএইচও–এর এক কর্মকর্তা বলেন,
“প্রতিটি রোগীকে সরিয়ে নেওয়া এক অলৌকিক কাজ। কিন্তু যাদের সরানো সম্ভব হয়, তার চেয়ে বেশি মানুষ অনুমতি বা পরিবহন না পেয়ে মারা যান।”
গাজার হাসপাতালগুলো ধ্বংসের মুখে
ডব্লিউএইচও–এর সর্বশেষ মাঠ পর্যায়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজার ৩৬টি হাসপাতালের মধ্যে মাত্র ১৭টি আংশিকভাবে কার্যকর। এসব হাসপাতাল ২০০–৩০০ শতাংশ ধারণক্ষমতায় চলছে এবং জেনারেটরের সীমিত বিদ্যুৎয়ের ওপর নির্ভর করছে।
সবচেয়ে বড় নাসের মেডিকেল কমপ্লেক্স ইসরায়েলি হামলায় আইসিইউ ও ফার্মেসি ধ্বংস হওয়ার পর বন্ধ হয়ে গেছে।
আল–শিফা হাসপাতাল এখন আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে, যেখানে ডাক্তাররা টর্চলাইটের আলোয় অস্ত্রোপচার করছেন।
চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ওষুধের মারাত্মক সংকটের কারণে অনেক ডাক্তার পুনর্ব্যবহার করছেন অস্ত্রোপচারের সরঞ্জাম এবং ক্ষত পরিষ্কারের জন্য নোনা পানি ব্যবহার করছেন।
এক ফিলিস্তিনি সার্জন জানান,
“এখন হাসপাতাল আর মর্গের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।”


