এবার সামনে এলো বাবলা হত্যার চাঞ্চল্যকর তথ্য
চট্টগ্রামে বিএনপির প্রার্থী এরশাদ উল্লাহর নির্বাচনি প্রচারণায় প্রকাশ্যে গুলি করে সরোয়ার হোসেন বাবলা হত্যাকাণ্ড নিয়ে নতুন তথ্য উদ্ঘাটন করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ঘটনায় শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদকে প্রধান আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাতে বায়েজিদ বোস্তামী থানায় নিহত বাবলার বাবা আবদুল কাদের বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলায় বড় সাজ্জাদসহ সাতজনের নাম উল্লেখ এবং ১৪–১৫ জন অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। র্যাব ইতিমধ্যেই এজাহারভুক্ত দুইজনকে গ্রেফতার করেছে, এবং বায়েজিদ বোস্তামী থানা পুলিশ আরও একজনকে আটক করেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বাবলার মৃত্যু নিশ্চিত করতে ঘাতকরা ৭.৬২ বোরের বিদেশি পিস্তল ব্যবহার করেছে। ঘটনাস্থলে কাছ থেকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ভিডিও বিশ্লেষণে দেখা গেছে বাবলাকে খুব কাছ থেকে একাধিক রাউন্ড গুলি করা হয়। প্রথম তিন গুলির পর তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন, পরে আরও কয়েক রাউন্ড গুলি করে হত্যাকারীরা মৃত্যু নিশ্চিত করে।
মামলায় বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদকে মূলহোতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন রায়হান আলম, বোরহান উদ্দিন, নেজাম উদ্দিন, আলাউদ্দিন, মোবারক হোসেন ইমন এবং হেলাল ওরফে মাছ হেলাল।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত চারজনের নাম নিশ্চিত করা হয়েছে—রায়হান, মোবারক হোসেন ইমন, বোরহান ও খোরশেদ।
র্যাব-৭ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, শুক্রবার সকালে চান্দগাঁও থানার হাজীরপুল এলাকায় অভিযান চালিয়ে আলাউদ্দিন ও হেলাল উদ্দিনকে গ্রেফতার করা হয়। তারা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার বিষয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দিয়েছে, তবে বড় সাজ্জাদ ও তার বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ থাকার কথা স্বীকার করেছে।
আরেকজন সরাসরি অংশগ্রহণকারীকে বায়েজিদ বোস্তামী থানা পুলিশ অক্সিজেন এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে। তার নাম এজাহারে উল্লেখ না থাকলেও তদন্তে তার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে বলে ওসি জসিম উদ্দিন নিশ্চিত করেছেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যমতে, বিদেশে বসে বড় সাজ্জাদ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে চট্টগ্রামের অপরাধ জগৎ নিয়ন্ত্রণ করছেন। মুক্তিপণ আদায়, চাঁদাবাজি, বালু-মাটি ব্যবসা দখল, ভবন নির্মাণ নিয়ন্ত্রণসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড তার নির্দেশে চলছে।
তার ডানহাত হিসেবে আগে কাজ করত “ছোট সাজ্জাদ”, যাকে পুলিশ গত মার্চে গ্রেফতার করে। বর্তমানে তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছে রায়হান, যাকে ১৪ মাসে ৯টি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযোগ রয়েছে।
গুলিবিদ্ধ বিএনপি প্রার্থী এরশাদ উল্লাহকে শুক্রবার দুপুরে হেলিকপ্টারে করে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান জানিয়েছেন, এরশাদ উল্লাহর বুকে ও পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছে, তবে তিনি বর্তমানে শঙ্কামুক্ত।
পুলিশ ও র্যাবের যৌথ তদন্তে হত্যার পরিকল্পনা ও অস্ত্র ব্যবহারের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। র্যাব জানিয়েছে, গ্রেফতার আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।


