শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:৫৮ অপরাহ্ন
Headline
Wellcome to our website...
আগামী নির্বাচনে বিরোধী শিবিরে বসতে পারে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগ
প্রকাশ কাল | রবিবার, ৯ নভেম্বর, ২০২৫, ৬:২৪ পূর্বাহ্ন
আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নির্বাচন ২০২৫, বিরোধী দল, আসন সমঝোতা, জাতীয় সরকার, রাজনীতি বিশ্লেষণ, বাংলাদেশ নির্বাচন, Awami League 2025 Election
ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক | Qtv Bangla নিউজ ডেস্ক

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিরোধী দলের আসনে বসবে না জামায়াতে ইসলামী—এমনটি প্রায় নিশ্চিত। দলটির নেতারা সরকার গঠনের আশাবাদ ব্যক্ত করলেও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এককভাবে বিএনপির পাল্লাই এবার ভারি হবে। সে কারণেই ক্ষমতার অংশীদার হতে বিএনপির সঙ্গে আসন সমঝোতায় আগ্রহী জামায়াত। এই সুযোগটিকেই কাজে লাগাতে চাইছে আওয়ামী লীগ—যারা এবার স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে রাজনৈতিক ভারসাম্যে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে।

রাজনৈতিক সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করতে না পারলেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অন্তত ৬০টি আসনে প্রার্থী দেয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে। এর মধ্যে বিশেষভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে যেসব আসনে সংখ্যালঘু ভোট ১৮ থেকে ২২ শতাংশের মধ্যে। দেশে ও দেশের বাইরে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী টিম এসব আসন বিশ্লেষণ করছে।

সূত্র মতে, দলটির নির্বাচনী বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে—১০ থেকে ১৫টি আসনে নিশ্চিত জয়, এবং আরও ৪০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক অবস্থান তৈরি হতে পারে। অর্থাৎ, সর্বনিম্ন ৩৫ থেকে সর্বোচ্চ ৬০টি আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জয়ী হলে, দলটি কার্যত বিরোধী শিবিরে বসার অবস্থানে যেতে পারে।

অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী মনে করছে, কম আসন নিয়ে বিরোধী দলে গেলে দলীয় অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়বে। তাই বিএনপির সঙ্গে সমঝোতা করলে সংসদে আসন সংখ্যা বাড়বে, একই সঙ্গে মন্ত্রিসভায় অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি হবে। এতে সাংগঠনিক প্রভাবও বৃদ্ধি পাবে।

একজন দায়িত্বশীল জামায়াত নেতা জানান, “বিরোধী দলে থাকলে সরকারের ব্যর্থতা নিয়ে কথা বলতেই হবে। কিন্তু আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র এমপিরাও যদি বিরোধী আসনে বসে সরকারের সমালোচনা করেন, তবে তা রাজনৈতিকভাবে জটিল এক সমীকরণ তৈরি করবে।”

রাজনৈতিক ইতিহাসে এমন পরিস্থিতির দৃষ্টান্ত আছে—১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ও জামায়াত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে একই প্ল্যাটফর্মে আন্দোলন করেছিল। তবে এবার যদি আওয়ামী লীগ বিরোধী দলে বসে বিএনপি-জামায়াত জোটের মুখোমুখি হয়, তা হবে এক ব্যতিক্রমধর্মী রাজনৈতিক বাস্তবতা, যা দেশের রাজনীতিতে নতুন “ট্র্যাজিক পলিটিক্স” তৈরি করতে পারে।

জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেন, “জাতীয় পার্টি যেভাবে আওয়ামী লীগকে অবৈধভাবে ক্ষমতায় রেখেছিল, তেমন পরিস্থিতি জনগণ মেনে নেবে না। ছদ্মবেশী আওয়ামী লীগারদের জনগণ চিনে ফেলেছে, তারা এবার ভোটে পরাজিত হবে।”

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, “জামায়াত বিরোধী দলে যাবে না। জনগণের ভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন নিয়ে আমরা সরকার গঠন করব, ইনশাআল্লাহ।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আওয়ামী লীগের সামনে এখন দুটি পথ—বিরোধী শিবিরে অবস্থান নিয়ে সংসদে শক্তিশালী ভূমিকা রাখা, অথবা ভবিষ্যতের জন্য রাজনৈতিক পুনর্গঠনের প্রস্তুতি নেওয়া। যে পথই বেছে নিক, ২০২৫ সালের জাতীয় নির্বাচন বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে, তা নিশ্চিত।

এই পাতার আরো খবর
Our Like Page