শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:৫৮ অপরাহ্ন
Headline
Wellcome to our website...
‘জুলাইয়ের শক্তি’ এনসিপিকে জোটে টানতে মরিয়া বিএনপি ও জামায়াত
প্রকাশ কাল | রবিবার, ৯ নভেম্বর, ২০২৫, ৬:৩৭ পূর্বাহ্ন
এনসিপি, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জুলাই অভ্যুত্থান, জাতীয় নির্বাচন ২০২৫, রাজনৈতিক জোট, বাংলাদেশ রাজনীতি, ইনু-মেনন, জোট রাজনীতি, জাতীয় নাগরিক পার্টি
ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক | Qtv Bangla নিউজ ডেস্ক

নতুন করে আলোচনায় এসেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)—যা ‘জুলাই অভ্যুত্থানের শক্তি’ হিসেবে পরিচিত। জানা গেছে, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী উভয় দলই এনসিপিকে নিজেদের জোটে আনতে তৎপর। ক্ষমতার সমীকরণে ভারসাম্য রক্ষায় দুদলই পর্দার আড়ালে একাধিক দফা যোগাযোগ করছে এনসিপির সঙ্গে।

তবে দলটির পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এনসিপি কোনো বড় রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোটে যাচ্ছে না। বরং এককভাবে নির্বাচনে অংশ নিয়ে নিজেদের রাজনৈতিক স্বাতন্ত্র্য অটুট রাখতে চায় তারা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের ইতিহাসে বড় দলের ছায়ায় ছোট দলের স্বাতন্ত্র্য হারানোর উদাহরণ অনেক। এ প্রসঙ্গে এনসিপির শীর্ষ নেতারা হাসানুল হক ইনু ও রাশেদ খান মেননের রাজনৈতিক পতনের উদাহরণ টেনে বলেছেন, “ক্ষমতার কাছে আত্মসমর্পণ করলে জনগণের আস্থা হারাতে হয়—এই শিক্ষা আমরা ভুলব না।”

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) ও ওয়ার্কার্স পার্টির মতো এক সময়ের স্বাধীন বাম দলগুলো আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে ধীরে ধীরে প্রাসঙ্গিকতা হারিয়েছে। গত ১৫ বছর তারা কার্যত সরকারের মুখপাত্রে পরিণত হয়েছিল, ফলে আজ তাদের রাজনৈতিক অস্তিত্বই প্রশ্নবিদ্ধ। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই শিক্ষা নিয়ে এনসিপি এখন স্বাধীন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে চায়।

গত শুক্রবার রাতে বিএনপির এক সিনিয়র নেতার বাসায় এনসিপির কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতার সঙ্গে এক অনানুষ্ঠানিক বৈঠক হয়। সেখানে বিএনপি ৮ থেকে ১০টি আসন ছাড়ার প্রস্তাব দেয়, তবে এনসিপি তাতে রাজি হয়নি। বৈঠকে দলটির নেতারা স্পষ্ট জানান—তারা কোনো জোটে যাচ্ছে না, এমনকি জামায়াত বা তৃতীয় জোটেও নয়

এক কেন্দ্রীয় নেতা যুগান্তরকে বলেন, “বিএনপির সঙ্গে আলোচনা হয়েছে, তবে আমরা জানিয়ে দিয়েছি—যখন কোনো ছোট দল বড় দলে যোগ দেয়, তখন তাদের আদর্শ হারিয়ে যায়। ইনু-মেননের দলে যা ঘটেছে, তা আমরা পুনরাবৃত্তি হতে দেব না।”

এনসিপির এই অবস্থান রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কারণ, জুলাই আন্দোলনের পর উদ্ভূত এই দলটি তরুণ ও শহুরে মধ্যবিত্তদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশের সমর্থন অর্জন করেছে। ফলে, বিএনপি ও জামায়াতের কাছে এনসিপি এখন ‘কিংমেকার’ সম্ভাবনাময় শক্তি হিসেবে বিবেচিত।

একই সঙ্গে, এনসিপি এখন তার জুলাইকেন্দ্রিক রাজনৈতিক দর্শনকে মূলধারায় রূপ দিতে চাইছে। তাদের মতে, পরিবর্তনের রাজনীতি শুরু হয়েছে জুলাই আন্দোলনের মাধ্যমে, আর সেটিকেই স্থায়ী কাঠামোয় রূপ দিতে স্বাধীন ভূমিকা প্রয়োজন।

বিএনপি ও জামায়াতের পক্ষ থেকে একাধিকবার যোগাযোগ চললেও এনসিপি যে আপাতত নিজের পথে চলতে বদ্ধপরিকর, সেটিই এখন পরিষ্কার। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ২০২৫ সালের নির্বাচনে এনসিপির অবস্থানই হয়তো ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক জোট-সমীকরণের গতি নির্ধারণ করবে।

এই পাতার আরো খবর
Our Like Page