শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:৫৫ অপরাহ্ন
Headline
Wellcome to our website...
নৈরাজ্যকারীদের লক্ষ্য করে গুলির নির্দেশ ডিএমপি কমিশনারের
প্রকাশ কাল | রবিবার, ১৬ নভেম্বর, ২০২৫, ৮:৩০ অপরাহ্ন
ডিএমপি কমিশনার, গুলির নির্দেশ, ঢাকা মহানগর পুলিশ, অগ্নিসংযোগ, ককটেল হামলা, শেখ হাসিনা রায়, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি
ফাইল ছবি । সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক । জাতীয় । Qtv Bangla

রাজধানী ঢাকায় নৈরাজ্য সৃষ্টির যেকোনো প্রচেষ্টা কঠোরভাবে দমন করতে আগুন–ককটেল হামলাকারীদের লক্ষ্য করে গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী। রোববার (১৬ নভেম্বর) বিকালে ওয়্যারলেস বার্তার মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সদস্যদের উদ্দেশে এই নির্দেশনা দেওয়া হয় বলে ডিএমপির অপরাধ বিভাগের তিন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন।

বেতার বার্তার নির্দেশনার বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএমপি কমিশনার যুগান্তরকে বলেন, “আমি ওয়্যারলেসে বলেছি যে কেউ বাসে আগুন দিলে, ককটেল মেরে জীবনহানির চেষ্টা করলে তাকে গুলি করতে। এটা আমাদের আইনেই বলা আছে।” তিনি আরও বলেন, “পুলিশের গাড়িতে আগুন দিলে, ককটেল নিক্ষেপ করলে বা জানমালের ক্ষতির চেষ্টা করলে পুলিশ তো বসে থাকবে না।”

ডিএমপির কর্মকর্তাদের ধারণা, আগামী সোমবার (১৭ নভেম্বর) ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে পারে। নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগসহ আওয়ামীপন্থি বেশ কিছু সংগঠন রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে নৈরাজ্যকর কার্যক্রমের পরিকল্পনা করছে—এমন তথ্যের ভিত্তিতেই কমিশনারের পক্ষ থেকে কঠোর নির্দেশনা এসেছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্র বলছে, রায়কে কেন্দ্র করে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে। বিশেষ করে গণপরিবহন, পুলিশ যান ও সরকারি স্থাপনাগুলোতে সম্ভাব্য নাশকতার আশঙ্কা রয়েছে। এসব কারণেই ডিএমপি কমিশনার মাঠপর্যায়ের পুলিশকে কঠোরতম অবস্থানে থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন।

এদিকে গত সপ্তাহেও চট্টগ্রামে টার্গেট কিলিংয়ের কয়েকটি ঘটনার পর সিএমপি কমিশনার হাসিব আজিজকেও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের লক্ষ্য করে গুলি করার নির্দেশ দিতে দেখা গেছে। তিনি ১১ নভেম্বর বেতার বার্তার মাধ্যমে জানিয়ে দেন—সশস্ত্র আক্রমণকারীকে নিরস্ত করা অসম্ভব হলে সরাসরি গুলি করা হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যাওয়ায় প্রশাসন কঠোর নিরাপত্তা কৌশল গ্রহণ করছে। বিশেষ করে রায় ঘোষণার আগে ও পরে উত্তেজনা বাড়তে পারে; তাই নিরাপত্তা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

ডিএমপি কমিশনারের নির্দেশকে কেউ কেউ জরুরি পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা হিসেবে দেখলেও, মানবাধিকার সংগঠনগুলো এ ধরনের নির্দেশের অপব্যবহারের আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, গুলির নির্দেশ ‘শেষ উপায়’ হিসেবে ব্যবহার করা উচিত এবং নিশ্চিত করতে হবে যেন কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত না হন।

তবে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা—রাজধানীতে অরাজকতা ও নাশকতা যেন কোনোভাবেই বিস্তার লাভ করতে না পারে। রায়কে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য সহিংসতা ঠেকাতে পুলিশের কঠোর অবস্থান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ভূমিকা রাখবে বলে তারা আশা করছেন।

এই পাতার আরো খবর
Our Like Page