ছয় জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) পদে বড় ধরনের রদবদল করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। রোববার (১৬ নভেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-১ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এই বদলি আদেশ দেওয়া হয়। প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন উপ-সচিব আবু সাঈদ।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, সরকারি স্বার্থে বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার বর্তমান কর্মস্থল পরিবর্তন করে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হলো। একই সঙ্গে তাদের দ্রুত নতুন কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক প্রয়োজনে এবং মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে সূত্র জানায়।
নতুন পদায়ন অনুযায়ী, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলমকে গাইবান্ধার পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সারওয়ার আলম এর আগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পরিচালক হিসেবে বিশেষ সুনাম অর্জন করেন। পিবিআইতেও বেশ কয়েকটি আলোচিত মামলার দায়িত্ব তিনি সফলভাবে পরিচালনা করেছেন।
দিনাজপুরের বর্তমান পুলিশ সুপার মো. মারুফাত হুসাইনকে বদলি করে ফরিদপুরের পুলিশ সুপার করা হয়েছে। তাঁর জায়গায় ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার মো. মিজানুর রহমানকে দিনাজপুর জেলার নতুন পুলিশ সুপার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। মিজানুর রহমান দীর্ঘদিন ঢাকা মহানগর পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং মাঠপর্যায়ে অভিজ্ঞ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত।
অন্যদিকে হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমানকে বদলি করে পাবনার পুলিশ সুপার হিসেবে পাঠানো হয়েছে। তাঁর স্থানে ডিএমপির উপপুলিশ কমিশনার গৌতম কুমার বিশ্বাসকে হবিগঞ্জের নতুন এসপি করা হয়েছে—যিনি প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিংয়ে পারদর্শী হিসেবে পরিচিত।
এ ছাড়া ডিএমপির আরেক উপপুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেনকে নীলফামারীর পুলিশ সুপার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশের একাধিক ইউনিটে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন।
পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন রাজনৈতিক পরিস্থিতি, মাঠপর্যায়ে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে এই রদবদল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ জেলাগুলোতে অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের পদায়নকে চলমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে তাৎপর্যপূর্ণ মনে করা হচ্ছে।
এ ধরনের রদবদল বাংলাদেশ পুলিশের নিয়মিত সাংগঠনিক কার্যক্রমের অংশ হলেও সাম্প্রতিক সময়ের রাজনৈতিক উত্তেজনা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে এই সিদ্ধান্ত বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।
নতুন পদায়নপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা দ্রুত দায়িত্ব গ্রহণ করলে জেলা পর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।


