শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:৫৪ অপরাহ্ন
Headline
Wellcome to our website...
হাসিনার মামলার রায় আজ: কঠোর নিরাপত্তায় প্রস্তুত ট্রাইব্যুনাল
প্রকাশ কাল | সোমবার, ১৭ নভেম্বর, ২০২৫, ১১:৫৩ পূর্বাহ্ন
হাসিনার রায়, মানবতাবিরোধী অপরাধ, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল, জুলাই গণঅভ্যুত্থান, চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, রায় ঘোষণা
ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক । জাতীয় । Qtv Bangla

হাসিনার মামলার রায় আজ

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে করা প্রথম মামলার রায় আজ ঘোষণা করা হবে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চে আজকের এ রায় ঘোষণার কথা রয়েছে। বেঞ্চের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারপতি মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

মামলার অন্য দুই আসামি হলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এবং সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। এর মধ্যে মামুন ‘অ্যাপ্রুভার’ হিসেবে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান বর্তমানে ভারতে পলাতক থাকায় তাদের অনুপস্থিতিতেই রায় ঘোষণা করা হবে। গ্রেফতার একমাত্র আসামি সাবেক আইজিপি মামুনকে আজ জেল থেকে আদালতে হাজির করা হবে।

রায়কে কেন্দ্র করে সুপ্রিম কোর্ট ও ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সর্বোচ্চ নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। সেনা মোতায়েনের জন্য ইতোমধ্যে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন সেনা সদর দপ্তরকে চিঠি পাঠিয়েছে। পাশাপাশি রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে বড় পর্দায় রায় সরাসরি দেখার ব্যবস্থা করছে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়। বিচারপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বিবেচনায় রায়ের অংশবিশেষ বাংলাদেশ টেলিভিশনের মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার হবে।

এ মামলায় প্রসিকিউশন পক্ষ পাঁচটি অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত করার দাবি জানিয়েছে। অভিযোগগুলো হলো—উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদান, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে মারণাস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ, রংপুরে আবু সাঈদকে হত্যা, চানখাঁরপুলে ছয় আন্দোলনকারীকে হত্যা এবং আশুলিয়ায় ছয়জনকে পুড়িয়ে হত্যা। এই অভিযোগগুলোর ভিত্তিতে ট্রাইব্যুনাল চলতি বছরের ১০ জুলাই তিন আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে।

মামলার সাক্ষ্যপ্রমাণে উঠে এসেছে—গত বছরের ১৪ জুলাই গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা আন্দোলনরত ছাত্র জনতাকে ‘রাজাকার’ বলে অভিহিত করেন। এরপর বিভিন্ন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার সঙ্গে ফোনালাপে আন্দোলনকারীদের দমন-পীড়নে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দেন বলে অভিযোগ। এসব নির্দেশের পরই বিভিন্ন স্থানে গুলি ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।

এ মামলায় মোট ৫৪ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। এর মধ্যে নিহত ছাত্র শাহরিয়ার খান আনাসের বাবা, স্টার উইটনেস নাহিদ ইসলাম এবং আমার দেশ সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান উল্লেখযোগ্য।
প্রসিকিউশন আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড এবং তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে ভুক্তভোগীদের পরিবারকে দেওয়ার আবেদন করেছে। তবে চূড়ান্ত রায় কী হবে, তা ট্রাইব্যুনালের ওপরই নির্ভর করছে।

প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার তামীম বলেছেন, রায়ে নারী-পুরুষের ভিত্তিতে সুবিধা দেওয়ার সুযোগ নেই; অপরাধের গুরুতরতা অনুযায়ী শাস্তি নির্ধারিত হবে। তিনি আরও জানান, একই অভিযোগে অন্য কোনো মামলা থাকলে তা বহাল থাকবে না, কারণ সংবিধান অনুযায়ী একই অপরাধে একজনকে দু’বার বিচার করা যায় না।

বহুল প্রতীক্ষিত এই রায় দেশের বিচার ইতিহাসে বড় মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বাংলাদেশসহ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলের নজর আজকের রায়ের দিকে।

এই পাতার আরো খবর
Our Like Page