নিজস্ব প্রতিবেদক । জাতীয় । Qtv Bangla
হাসিনাসহ ৩ আসামির বিরুদ্ধে যে পাঁচ অভিযোগ
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে মোট পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়েছে। এই মামলাটি গণঅভ্যুত্থনকালীন সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডের প্রথম বিচারপ্রক্রিয়া হিসেবে দেশের মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। আজ সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ মামলার রায় ঘোষণা করবে।
আনা পাঁচটি অভিযোগের মধ্যে রয়েছে—
১) উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদান;
২) প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের নির্মূল করার নির্দেশ;
৩) রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যা;
৪) রাজধানীর চানখাঁরপুল এলাকায় আন্দোলনরত ছয়জনকে গুলি করে হত্যা;
৫) আশুলিয়ায় ছয়জনকে পুড়িয়ে হত্যা।
এই মামলার প্রধান আসামি শেখ হাসিনার পাশাপাশি অন্য দুই আসামি হলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এবং পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। এর মধ্যে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান বর্তমানে ভারতে পলাতক রয়েছেন। মামুন ‘অ্যাপ্রুভার’ হিসেবে আদালতে জবানবন্দি প্রদান করেছেন এবং তিনিই গ্রেফতার হয়ে বর্তমানে কারাগারে আছেন।
আজকের রায় ঘোষণার কার্যক্রম আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর এজলাস থেকে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। গণঅভ্যুত্থানের সময় হত্যাকাণ্ডসহ মানবতাবিরোধী অপরাধে করা এটাই প্রথম মামলা, যার রায় হতে যাচ্ছে। বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ রায় ঘোষণা করবেন। তার সঙ্গে রয়েছেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং বিচারক মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে রোববার এক ব্রিফিংয়ে প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম জানান, আসামিদের বিরুদ্ধে আনা পাঁচটি অভিযোগই তারা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণে সক্ষম হয়েছেন। তিনি বলেন, “ন্যায়বিচারের স্বার্থে ট্রাইব্যুনাল যে আদেশই দিক, প্রসিকিউশন তা মেনে নেবে।”
তিনি আরও জানান, রায়ের যে অংশটুকু ট্রাইব্যুনাল পড়ে শোনাবেন, তা অনুমতি সাপেক্ষে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। এর মাধ্যমে দেশ-বিদেশের মানুষ বিচারপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা প্রত্যক্ষ করতে পারবেন।
এদিকে মামলার প্রধান আসামি শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের কাছে রেড নোটিশ জারির জন্য পূর্বে আবেদন করেছিল বাংলাদেশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি)। প্রসিকিউটর তামীম বলেন, যদি রায়ে হাসিনার বিরুদ্ধে শাস্তি প্রদান করা হয়, তাহলে ইন্টারপোলের কাছে ‘কনভিকশন ওয়ারেন্ট’ পাঠানো হবে, যাতে রেড নোটিশ জারির প্রক্রিয়া শুরু করা যায়।
ঐতিহাসিক এই মামলার রায় কী হতে যাচ্ছে—তা নিয়ে দেশজুড়ে তীব্র আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। অনেকে মনে করছেন, এ রায় ভবিষ্যৎ মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারপ্রক্রিয়ার জন্যও নতুন দিকনির্দেশনা হয়ে থাকবে। আজকের রায়ের মাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালীন ঘটনার বিচারপ্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ আরও এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় স্পর্শ করতে


