নিজস্ব প্রতিবেদক । জাতীয় । Qtv Bangla
ধানমন্ডি ৩২ নম্বরকে ভেঙে উন্মুক্ত খেলার মাঠ তৈরির দাবিতে বুলডোজারসহ জড়ো হয়েছেন জুলাই স্মৃতি পরিষদ ও জুলাই আন্দোলনের অংশগ্রহণকারীরা। সোমবার দুপুরে ঢাকা কলেজ এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে ধানমন্ডি ৩২ এর সামনে এসে অবস্থান নেন তারা। তাদের দাবি—এই এলাকা ছিল ছাত্র–জনতার ওপর হামলার চক্রান্তের কেন্দ্র, তাই ভবনটি ভেঙে জনগণের জন্য একটি উন্মুক্ত মাঠ গড়ে তোলা প্রয়োজন।
জুলাই স্মৃতি পরিষদের আহ্বায়ক নাহিদ হাসান বলেন, “ধানমন্ডি ৩২ নম্বর জায়গাটি উন্মুক্ত খেলার মাঠ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। জুলাই আন্দোলনের আহত যোদ্ধা, অংশগ্রহণকারী ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের একত্রিত হওয়ার কারণ একটাই—বাংলাদেশে আর আওয়ামী লীগ বা তাদের দোসরদের কোনো অস্তিত্ব আমরা চাই না। এখান থেকেই হামলার নীলনকশা করা হতো। তাই আমরা এই বাড়িটি গুঁড়িয়ে দিতে চাই এবং এখানে একটি উন্মুক্ত মাঠ দেখতে চাই।”
তিনি আরও দাবি করেন, তারা কোনো সরকারি সহায়তা নেননি। “দুইটা বুলডোজার ভাড়া করেছি। এটা কেউ গিফট দেয়নি, সরকারি বুলডোজারও নয়, আমাদের নিজেদের টাকায় ভাড়া করা,” বলেন নাহিদ।
জুলাই যোদ্ধা সাব্বির বলেন, “ধানমন্ডি ৩২ ছিল ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালানো ও চক্রান্তের কেন্দ্র। যেখানে সন্ত্রাসীদের আশ্রয় ছিল। তাই এই বাড়িটি আমরা রাখতে চাই না। আজ থেকে এর পতন শুরু হবে।”
শিক্ষার্থী হাবিসুর বলেন, “ঢাকায় শিশুদের খেলার মাঠের ভয়াবহ সংকট। ধানমন্ডি ৩২ ফ্যাসিবাদের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা চাই, এটি ভেঙে উন্মুক্ত পার্ক ও খেলার মাঠ হোক।”
এদিকে এলাকা জুড়ে কঠোর নিরাপত্তা দিয়েছে পুলিশ। পাশাপাশি রয়েছে র্যাব, এপিবিএন, বিজিবি ও সেনাবাহিনী। গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও মাঠে তৎপর। রোববার সন্ধ্যার পর থেকে দোয়েল চত্বর হয়ে শিক্ষাভবনমুখী সড়কে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়। সীমিত করা হয় জনসাধারণের চলাচল।
জুলাই অভ্যুত্থান–সংক্রান্ত মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রায় ঘোষণাকে ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে। আন্দোলনকারীরা বলছেন—রায় ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে তারা ব্যারিকেড ভেঙে বুলডোজার নিয়ে এগিয়ে যাবেন। পরিস্থিতি নিয়ে প্রশাসনও সতর্ক রয়েছে।


