রাশিয়া-ইউক্রেনের যুদ্ধ বন্ধে দীর্ঘদিন ধরে স্থবির থাকা শান্তি আলোচনায় নতুন করে গতি আনতে চায় তুরস্ক। আঙ্কারায় এক বৈঠকে এমনই সংকেত দিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান। বুধবার (১৯ নভেম্বর) রাজধানী আঙ্কারায় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি এই অবস্থান তুলে ধরেন।
দুই নেতার মধ্যকার এই বৈঠককে চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কূটনৈতিক সমাধান খোঁজার প্রচেষ্টায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। বৈঠকে কিয়েভ ও মস্কোর মধ্যে পুনরায় আলোচনার পথ খুলে দিতে তুরস্ক যে সক্রিয় ভূমিকা নিতে আগ্রহী—তা স্পষ্ট করে জানান এরদোগান।
এরদোগান বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি যে সমস্যাগুলোর সমাধান করে এমন একটি আরও ব্যাপক পদ্ধতির মাধ্যমে প্রক্রিয়াকে পুনরায় সক্রিয় করা উপকারী হবে। আঙ্কারা দীর্ঘস্থায়ী শান্তির দিকে আলোচনাকে এগিয়ে নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স জানায়, যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি যুদ্ধ বন্ধে একটি প্রস্তাবনা নিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনা করেছে। কিয়েভকে এ বিষয়ে কিছু ‘সংকেত’ দেওয়া হলেও প্রস্তাব তৈরিতে ইউক্রেনের কোনো ভূমিকা ছিল না বলে জানিয়েছে সূত্রটি। তবে এসব প্রস্তাব নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি জেলেনস্কি বা এরদোগান।
গত জুলাই মাসে ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন শান্তি আলোচনার কোনো অগ্রগতি হয়নি। যুদ্ধ চতুর্থ বর্ষে গড়ালেও কূটনৈতিক সমাধানের পথ অনেকটাই অনিশ্চিত রয়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে আলোচনার নতুন জানালা খুলতে আবারও মধ্যস্থতার ভূমিকা নিতে চায় আঙ্কারা।
এরদোগান বলেন, “যদি প্রয়োজন হয় তুরস্ক রাশিয়ার সঙ্গেও বৈঠকে বসতে প্রস্তুত। শান্তি প্রতিষ্ঠায় যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ন্যাটো সদস্য তুরস্ক একদিকে পশ্চিমা জোটের ঘনিষ্ঠ বন্ধু, অন্যদিকে মস্কোর সঙ্গেও তাদের কার্যকর যোগাযোগ রয়েছে। ফলে দুই পক্ষকে আলোচনার টেবিলে ফেরাতে তুরস্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
অন্যদিকে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির এই সফরকে যুদ্ধক্ষেত্রে কঠিন পরিস্থিতির মাঝে আন্তর্জাতিক সমর্থন শক্তিশালী করার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রুশ বাহিনী পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চলে অগ্রগতি অর্জন করেছে, যার ফলে কিয়েভের ওপর কূটনৈতিক চাপ বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি তুরস্ক আলোচনার মধ্যস্থতায় সফল হয়, তবে এটি ইউক্রেন যুদ্ধের কূটনৈতিক সমাধানের ক্ষেত্রে একটি বড় মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। তবে রাশিয়া কতটা আলোচনায় আগ্রহ দেখাবে—সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
তথ্যসূত্র: সিনহুয়া


