নিজস্ব প্রতিবেদকে । জাতীয় । Qtv Bangla
ত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও নাগরিক সমাজের বিশিষ্ট কর্মী এম হাফিজ উদ্দিন খান-এর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।
এক শোকবার্তায় প্রধান উপদেষ্টা মরহুম হাফিজ উদ্দিন খানের দীর্ঘ ও কর্মবহুল জীবনের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, রাষ্ট্র ও জনগণের কল্যাণে মরহুমের অবদান ছিল অনস্বীকার্য এবং তা জাতির ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেন,
“এম হাফিজ উদ্দিন খান ছিলেন একজন সৎ, প্রজ্ঞাবান ও দায়িত্বশীল রাষ্ট্রকর্মী। রাষ্ট্রসেবায় তার নিষ্ঠা, সততা ও নৈতিক অবস্থান আমাদের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।”
শোকবার্তায় তিনি আরও বলেন,
“ব্যক্তিগত জীবনেও তিনি আমার একজন সহপাঠী ও ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে তার প্রজ্ঞা, মানবিকতা ও স্পষ্টভাষিতা আমাকে সমৃদ্ধ করেছে। তার মৃত্যুতে আমি একজন বিশ্বস্ত সহকর্মী ও বন্ধুকে হারালাম।”
প্রধান উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, হাফিজ উদ্দিন খান তার কর্মজীবনে যে সততা, নিষ্ঠা ও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন এবং পরবর্তীতে রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যে ভূমিকা রেখেছেন, তা জাতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।
তিনি মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
কর্মজীবন ও অবদান
প্রসঙ্গত, এম হাফিজ উদ্দিন খান বুধবার সন্ধ্যায় বার্ধক্যজনিত কারণে ইন্তেকাল করেন। তিনি ডাক, তার ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
২০০১ সালে গঠিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারে তিনি অর্থ, পরিকল্পনাসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। রাষ্ট্রীয় প্রশাসন, অর্থনীতি ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় তার ভূমিকা প্রশংসিত হয়েছিল দেশ-বিদেশে।
নাগরিক সমাজের একজন অগ্রণী কণ্ঠ হিসেবে হাফিজ উদ্দিন খান সততা ও নৈতিকতার পক্ষে আজীবন অবস্থান নিয়েছেন। তার মৃত্যুতে রাষ্ট্র একজন অভিজ্ঞ প্রশাসক ও সমাজ একজন বিবেকবান নাগরিককে হারাল।


