নিজস্ব প্রতিবেদক । রাজনীতি । Qtv Bangla
২২ বছর পর ময়মনসিংহে যাচ্ছেন তারেক রহমান, জনসভা ঘিরে প্রস্তুতি তুঙ্গে
দীর্ঘ ২২ বছর পর আজ (মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি) ময়মনসিংহ সফরে যাচ্ছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ উপলক্ষে নগরী ও আশপাশের এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। দুপুর ২টায় সার্কিট হাউস মাঠে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনি জনসভায় ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে তার। বিএনপি নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা, এটি হবে ময়মনসিংহের ইতিহাসে স্মরণকালের অন্যতম বৃহৎ জনসমাবেশ।
এক মঞ্চে ২৪ আসনের প্রার্থীরা
এই জনসভায় ময়মনসিংহ বিভাগের ২৪টি সংসদীয় আসনের ধানের শীষের প্রার্থীদের এক মঞ্চে পরিচয় করিয়ে দেবেন বিএনপি চেয়ারম্যান। পাশাপাশি তাদের পক্ষে ভোট চাইবেন এবং আগামী দিনের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা দেবেন তিনি।
জনসভায় সভাপতিত্ব করবেন ময়মনসিংহ জেলা দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক জাকির হোসেন।
নির্বাচনী লড়াইয়ে দিকনির্দেশনা দেবেন তারেক রহমান
দলীয় সূত্র জানায়, জনসভায় তারেক রহমান শুধু প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়াই নয়, বরং নির্বাচনী কৌশল, সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি ও ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র পরিচালনার রূপরেখা তুলে ধরবেন। নেতাকর্মীদের উদ্দেশে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনাও আসবে তার বক্তব্যে।
বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা মনে করছেন, এই জনসভা ময়মনসিংহ বিভাগে ধানের শীষের পক্ষে নির্বাচনী গতি বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
স্মরণকালের বড় জমায়েতের প্রস্তুতি
গতকাল সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির ময়মনসিংহ বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শরীফুল আলম জানান, জনসভা সফল করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন,
“ইতোমধ্যে আমরা চার জেলা ছাড়াও ময়মনসিংহ মহানগর, দক্ষিণ ও উত্তর জেলা এবং উপজেলার নেতাদের সঙ্গে ধারাবাহিক সভা করেছি। সব ইউনিটের নেতাকর্মীদের নির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”
এলইডি স্ক্রিন, নিরাপত্তা ও নারী অংশগ্রহণ
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সার্কিট হাউস মাঠসহ আশপাশের এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হওয়ার আশঙ্কায় একাধিক পয়েন্টে বড় এলইডি স্ক্রিন বসানো হচ্ছে, যাতে দূরের মানুষও বক্তব্য শুনতে ও দেখতে পারেন।
শরীফুল আলম বলেন,
“নারীদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা থাকবে। সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পুরো সমাবেশস্থল থাকবে সিসি ক্যামেরার আওতায়।”
নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় স্বেচ্ছাসেবক দলসহ দলের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠন দায়িত্ব পালন করবে।
প্রশাসনের সহযোগিতা
বিএনপি নেতা শরীফুল আলম জানান, প্রশাসনের কাছে লিখিতভাবে অনুমতি ও সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। তিনি বলেন,
“প্রশাসন আমাদের সহযোগিতা করছে। আমরা আশা করছি শান্তিপূর্ণ ও সফল একটি সমাবেশ হবে।”
২০০৪ সালের পর প্রথম সফর
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সর্বশেষ ২০০৪ সালে তারেক রহমান ময়মনসিংহে একটি ইউনিয়ন প্রতিনিধি সভায় অংশ নিয়েছিলেন। দীর্ঘ এই বিরতির পর তার আগমনকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে।
শরীফুল আলম বলেন,
“প্রায় ২২ বছর পর নেতার এই আগমনে এলাকার মানুষ ভীষণভাবে উচ্ছ্বসিত। সার্কিট হাউস মাঠ ছাড়াও পুরো শহরেই লোকসমাগম থাকবে বলে আমরা আশা করছি।”
নগরজুড়ে উৎসবের আমেজ
জনসভাকে ঘিরে ময়মনসিংহ নগরীতে ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টারে ছেয়ে গেছে বিভিন্ন এলাকা। বিএনপির নেতাকর্মীরা দলে দলে শহরে প্রবেশ করছেন। বিভিন্ন উপজেলা ও জেলা থেকে মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা জনসভাস্থলে আসবেন বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
স্থানীয় বিএনপি নেতারা বলছেন, দীর্ঘদিন পর দলের শীর্ষ নেতার সরাসরি উপস্থিতি নেতাকর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করেছে।
নির্বাচনী রাজনীতিতে গুরুত্ব
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ময়মনসিংহ বিএনপির একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক ঘাঁটি। সেখানে তারেক রহমানের সরাসরি জনসভা আসন্ন নির্বাচনে রাজনৈতিক বার্তা ও শক্তি প্রদর্শনের বড় মাধ্যম হয়ে উঠবে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই জনসভা শুধু ময়মনসিংহ নয়, পুরো দেশের নির্বাচনী রাজনীতিতেই প্রভাব ফেলতে পারে।
নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা
স্থানীয় নেতাকর্মীরা বলছেন, তারেক রহমানের বক্তব্যে তারা ভোটের মাঠে নতুন উদ্দীপনা ও কৌশলগত দিকনির্দেশনা পাবেন। অনেকের মতে, এই জনসভা থেকে নির্বাচনী প্রচারণার নতুন অধ্যায় শুরু হবে।
২২ বছর পর তারেক রহমানের ময়মনসিংহ সফর বিএনপির জন্য একটি রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্ত। স্মরণকালের বড় জমায়েত, এক মঞ্চে ২৪ আসনের প্রার্থী, নির্বাচনী দিকনির্দেশনা এবং সংগঠিত প্রস্তুতি—সব মিলিয়ে এই জনসভা আসন্ন নির্বাচনের আগে বিএনপির শক্ত অবস্থান জানান দেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা অনুযায়ী জনসভা সফল হলে, ময়মনসিংহ বিভাগে বিএনপির নির্বাচনী প্রচারণা নতুন গতি পাবে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টরা।


