মুহাম্মদ তাহের নঈম, জেলা প্রতিনিধি, কক্সবাজার
কক্সবাজারের টেকনাফে নাফ নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে মিয়ানমারের সশস্ত্র সংগঠন আরাকান আর্মির ছোঁড়া গুলিতে দুই বাংলাদেশি জেলে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।
আহত জেলেরা হলেন টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের কানজরপাড়া এলাকার শেখ কামালের ছেলে মো. সোহেল (১৬) এবং একই ইউনিয়নের মো. ইউনুসের ছেলে মো. ওবাইদুল্লাহ (১৭)। আহত দু’জনই কিশোর বয়সী জেলে।
স্থানীয় জেলেরা জানান, মঙ্গলবার দুপুরের দিকে হোয়াইক্যংয়ের ঝিমংখালী সংলগ্ন নাফ নদীতে নৌকাযোগে মাছ ধরছিলেন কয়েকজন জেলে। এ সময় মিয়ানমার সীমান্তের দিক থেকে হঠাৎ করে সশস্ত্র ব্যক্তিরা জেলেদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে।
১০–১৫ রাউন্ড গুলিবর্ষণের অভিযোগ
হোয়াইক্যং ঝিমংখালী এলাকার জেলে ইমান হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আরাকান আর্মির সদস্যরা জেলেদের লক্ষ্য করে আনুমানিক ১০ থেকে ১৫ রাউন্ড গুলি বর্ষণ করে। এতে মো. সোহেল ও মো. ওবাইদুল্লাহ গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন।
তিনি বলেন, “হঠাৎ করে গুলির শব্দ শুনে সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়ি। দুইজন জেলে গুলিবিদ্ধ হলে অন্যরা দ্রুত তাদের উদ্ধার করার চেষ্টা করে।”
এমএসএফ হাসপাতালে চিকিৎসা
গুলিবর্ষণের পর স্থানীয় জেলেরা দ্রুত আহত দুই কিশোরকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য কুতুপালংয়ের এমএসএফ (Médecins Sans Frontières) হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে তারা সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
তবে আহতদের শারীরিক অবস্থার বিস্তারিত এখনো জানা যায়নি। চিকিৎসকরা প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসা দিচ্ছেন বলে জানিয়েছে হাসপাতাল সূত্র।
সীমান্ত লঙ্ঘন নিয়ে ধোঁয়াশা
ঘটনার সময় জেলেরা বাংলাদেশের জলসীমার ভেতরে ছিলেন নাকি মিয়ানমার সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থান করছিলেন, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বক্তব্য
হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই খোকন কান্তি রুদ্র বলেন,
“নাফ নদীতে দুই জেলে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছে—এমন খবর আমরা পেয়েছি। বিষয়টি খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।”
এদিকে টেকনাফের ঝিমংখালী বিওপির কোম্পানি কমান্ডার জানান,
“ঘটনার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। বিস্তারিত তথ্য পরবর্তীতে জানানো হবে।”
সীমান্তে আবারও উদ্বেগ
উল্লেখ্য, টেকনাফ সীমান্ত ও নাফ নদী এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের প্রভাব পড়ছে। এর আগেও একাধিকবার সীমান্তবর্তী এলাকায় গোলাগুলি ও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে, যা স্থানীয় জেলে ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
বিশেষ করে নাফ নদীতে মাছ ধরতে যাওয়া জেলেরা প্রায়ই নিরাপত্তাহীনতার মুখে পড়ছেন। স্থানীয়দের দাবি, সীমান্ত এলাকায় জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।


