নিজস্ব প্রতিবেদক । জাতীয় । Qtv Bangla
দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব ও সমাজ ব্যবস্থার অন্যতম চালিকাশক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েটরা—এমন মন্তব্য করে দেশ বদলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন। তিনি বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্জিত জ্ঞান, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা কেবল ব্যক্তিগত সাফল্যের জন্য নয়, বরং তা সমাজ ও রাষ্ট্রের কল্যাণে কাজে লাগাতে হবে।
শনিবার (তারিখ) মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার হামদর্দ নগরে হামদর্দ বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের নিজস্ব ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। জাঁকজমকপূর্ণ ও ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশে আয়োজিত এই সমাবর্তনে এক হাজার ৭৫৪ জন শিক্ষার্থীকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি প্রদান করা হয়।
রাষ্ট্রপতির প্রতিনিধি হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্যর দায়িত্ব পালন করে ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এবং গ্র্যাজুয়েটদের হাতে সনদ তুলে দেন।
সমাবর্তনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েটরাই মূলত দেশ পরিচালনা করে। প্রশাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ব্যবসা, প্রযুক্তি—সব ক্ষেত্রেই গ্র্যাজুয়েটদের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। তাই আগামী দিনের সমাজ ব্যবস্থা কেমন হবে, তা অনেকটাই নির্ভর করে আজকের গ্র্যাজুয়েটদের চিন্তা ও কর্মকাণ্ডের ওপর।”
তিনি আরও বলেন, “গ্র্যাজুয়েটদের অর্জিত জ্ঞান, অভিজ্ঞতা, প্রজ্ঞা, আচরণ, নৈতিকতা ও মূল্যবোধ দিয়ে সমাজের সেবা করতে হবে। শুধু ভালো চাকরি বা আর্থিক সফলতা অর্জন করলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। মানুষের জন্য, দেশের জন্য কিছু করার মানসিকতা থাকতে হবে।”
দেশের বর্তমান বাস্তবতা তুলে ধরে ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, “আমাদের স্বাধীনতার ৫৪ বছরের ইতিহাসে যেমন অনেক সাফল্য রয়েছে, তেমনি ব্যর্থতাও রয়েছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সব সময় আমাদের ভাবমূর্তি প্রত্যাশিত পর্যায়ে নেই। এই অবস্থার পরিবর্তন আনতে হলে সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে কাজ করতে হবে।”
তিনি গ্র্যাজুয়েটদের উদ্দেশে বলেন, “আপনারাই পারেন দেশকে বদলে দিতে। ছোট ছোট জায়গা থেকে শুরু করেই বড় পরিবর্তন আসে। তাই যেখানে থাকবেন, যে দায়িত্বই পালন করবেন, সেখানেই সততার সঙ্গে কাজ করার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে।”
সমাবর্তনে সমাবর্তন বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান। তিনি বলেন, “আজকের এই অর্জনের পেছনে অনেক মানুষের অবদান রয়েছে। তবে সবচেয়ে বড় অবদান পিতামাতা ও অভিভাবকদের। তাদের ত্যাগ ও ভালোবাসা ছাড়া আজকের এই সাফল্য সম্ভব হতো না।”
গ্র্যাজুয়েটদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, “সামনের দিনগুলো সহজ হবে না। বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা, প্রযুক্তিগত পরিবর্তন ও সামাজিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। দক্ষতা দিয়েই নিজেদের পথ তৈরি করতে হবে।” একই সঙ্গে তিনি সহনশীলতা, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে মানুষের কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান।
সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন। তিনি উচ্চশিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন ও গবেষণায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন হামদর্দ বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান জাতীয় অধ্যাপক ড. এ কে আজাদ খান, ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. চৌধুরী মাহমুদ হাসান, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান পৃষ্ঠপোষক ড. হাকিম মো. ইউসুফ হারুন ভূইয়া এবং উপাচার্য অধ্যাপক মো. মনজারুল আলম।
বক্তারা হামদর্দ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম, গবেষণা ও মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তারা বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু ডিগ্রি প্রদান নয়, বরং নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন নাগরিক তৈরিতে ভূমিকা রাখছে।
সমাবর্তন শেষে গ্র্যাজুয়েটদের উচ্ছ্বাস ও আনন্দে ক্যাম্পাস মুখরিত হয়ে ওঠে। অনেক শিক্ষার্থী জানান, দেশের জন্য কাজ করার অনুপ্রেরণা পেয়েছেন তারা। অভিভাবকরাও সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, সন্তানদের ভবিষ্যৎ গঠনে এই অর্জন একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
সামগ্রিকভাবে, হামদর্দ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তন শুধু একটি শিক্ষাগত অনুষ্ঠান নয়, বরং দেশ গঠনে গ্র্যাজুয়েটদের দায়িত্ব ও ভূমিকা স্মরণ করিয়ে দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ হয়ে উঠেছে।


