নিজস্ব প্রতিবেদক । রাজনীতি । Qtv Bangla
ঢাকা:
হাইকোর্টের পর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগেও প্রার্থিতা টেকেনি কুমিল্লা-৪ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর। তার করা লিভ টু আপিল খারিজ করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ। ফলে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি আর অংশ নিতে পারবেন না।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ ও নিয়মিত বেঞ্চ মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর করা আবেদনটি খারিজ করেন। আদালতের এই আদেশের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তই বহাল থাকল।
কুমিল্লা-৪ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচিত ছিলেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী। আপিল বিভাগের এই সিদ্ধান্তের ফলে ওই আসনের নির্বাচনী সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এলো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এর আগে, গত ২১ জানুয়ারি ঋণখেলাপির অভিযোগে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিএনপি প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর করা রিট আবেদন সরাসরি খারিজ করে দেন হাইকোর্ট। হাইকোর্টের আদেশের পর তিনি সর্বোচ্চ আদালতে লিভ টু আপিল দায়ের করেন। তবে আপিল বিভাগেও তিনি কোনো স্বস্তি পাননি।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ জানুয়ারি ঋণখেলাপির অভিযোগে কুমিল্লা-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়। প্রার্থীর ঋণসংক্রান্ত তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে নির্বাচন কমিশন এই সিদ্ধান্ত নেয়।
এই মনোনয়ন বাতিলের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনে আবেদন করেছিলেন ওই আসনের ১১ দলীয় জোটভুক্ত জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি অভিযোগ করেন, মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী ঋণখেলাপি হওয়া সত্ত্বেও মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন, যা নির্বাচনী আইন অনুযায়ী গ্রহণযোগ্য নয়।
নির্বাচনী আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঋণখেলাপি সংক্রান্ত বিধান নির্বাচন ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। আদালত ও নির্বাচন কমিশন উভয়ই এ ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থান নিয়েছে, যা ভবিষ্যতের জন্য একটি নজির হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে।
এদিকে বিএনপির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া এখনো জানানো হয়নি। তবে দলীয় সূত্র বলছে, আদালতের রায় অনুযায়ী পরবর্তী করণীয় বিষয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব আলোচনা করছে।
অন্যদিকে এনসিপি প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহর সমর্থকদের মধ্যে এই রায়ের পর নতুন করে চাঙ্গাভাব লক্ষ্য করা গেছে। তারা মনে করছেন, আদালতের সিদ্ধান্তে নির্বাচনী মাঠে প্রতিযোগিতার চিত্র পরিবর্তিত হয়েছে।
কুমিল্লা-৪ আসনে আগামী নির্বাচনে কোন কোন প্রার্থী থাকছেন এবং ভোটের লড়াই কীভাবে এগোবে—এ নিয়ে এখন নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। আদালতের এই রায়ের ফলে ওই আসনের নির্বাচনী পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ মোড় নিল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
সব মিলিয়ে, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর আপিল খারিজ হওয়ার মধ্য দিয়ে কুমিল্লা-৪ আসনে বিএনপির এই প্রার্থীর নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পথ চূড়ান্তভাবে বন্ধ হয়ে গেল।


